সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দিন দেশের পুঁজিবাজারে বেশ চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দিন দেশের পুঁজিবাজারে বেশ চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে কিছুদিন পরই এতে ছন্দপতন ঘটে। গত আড়াই মাসে এক হাজারের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচির বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ সময় পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ, নির্বাহী কমিশনার মাহবুবুল আলম ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন। করসংক্রান্ত ইস্যুর কারণে উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফ্লোর প্রাইস ও মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে অনেকটাই সরে গেছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসছেন না। এ অবস্থায় আমরা বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্থতাকারী ও পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ানো—এ তিনটি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করব। প্রথমে আমরা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করসংক্রান্ত ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করব। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মূলধনি মুনাফায় করারোপ এবং তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৫ শতাংশ কর ব্যবধানের বিষয়টি যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করা হবে।’

পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কীভাবে প্রণোদনা দেয়া যায় সে বিষয়ে কিছু প্রস্তাব আসবে। আইসিবির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য সরকারের কাছে তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটিকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের কারণে যেসব আর্থিক জরিমানা করা হয় সে অর্থ কীভাবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কাজে লাগানো যায় সেজন্য আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শেয়ার বাই ব্যাকের প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে।’

বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে উল্লেখ করে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘এর মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা একদিনে (টি প্লাস ওয়ান) নামিয়ে আনা যায় কিনা সেটি আমরা দেখছি। ব্রোকারেজ হাউজের সিসি হিসাবের সুদের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে নেগেটিভ ইকুইটির সমস্যা রয়ে গেছে। এটিকে স্থায়ীভাবে সমাধান করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বাজারের গভীরতা বাড়াতে আমরা সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশী ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য কাজ করছি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া মসৃণ করতে আমরা আইপিও আইন সংস্কারে কাজ করছি। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্যও আমরা কাজ করছি। অতীতে ফ্লোর প্রাইস ও মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির মতো যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কিছু না হলে পুঁজিবাজারের প্রতি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমরা সামনে নেব না এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করব। এসব বিষয় নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি শিগগিরই ভালো কিছু পাবেন। এতে আমাদের বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাবেন যে আমরা সামনে ভালো দিন আশা করতে পারি। বর্তমান সরকার ব্যাংক, আর্থিক ব্যবস্থাসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সামনের দিনে আমাদের পুঁজিবাজারের পথচলা সহজ হবে। ফলে আমরা আগে যে পুঁজিবাজার দেখেছি তার তুলনায় সামনে এটি আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে, সুশাসন ও জবাবদিহি থাকবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা হবে। কাজেই আমাদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে যে পুঁজিবাজার অনেক বড় ও সমৃদ্ধ হবে।’

আরও